ফার্মেসি অনুষদ জটিল পরিস্থিতিতে আছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৩টি অনুষদে ৮৪টি বিভাগ রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ও এর অন্তর্গত বিভাগগুলো| ফার্মেসি বিভাগ হিসেবে স্বাধীনতারও পূর্বে শুরু হয়।এই বিভাগটি সর্বপ্রথম ১৯৬৪ সালে যাত্রা শুরু করে।বিভাগটির হাত ধরেই এদেশে ফার্মেসি শিক্ষার প্রচলন শুরু হয়,ফার্মেসি চালুর ঠিক ২৩ বছর পর ১৯৮৭ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু করা হয় বিভাগটি। পরবর্তিতে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিভাগ খোলা হয়।’ফার্মেসি পড়ো ,আমেরিকা উড়ে যাও’ এমন একটি কথার প্রচলন শুরু থেকেই ছিলো।ফার্মেসির উপর উচ্চতর ডিগ্রি নিতে চাইলে প্রার্থীকে অবশ্যই একাডেমিকভাবে ভালো ফলাফলের অধিকারী হতে হবে। এরপর বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে খোঁজ খবর নিতে হবে। এর জন্য আইএলটিএস, টোফেল, জিআরইসহ বিভিন্ন কোর্স করা থাকলে স্কলারশিপ পেতে সুবিধা হয়। আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এমনকি ভারতেও ফার্মেসির উপর উচ্চতর ডিগ্রি নেয়া যায়।

du-pharmacy

বর্তমানে এতে পাঁচ বছর মেয়াদি অনার্স কোর্স চালু রয়েছে। বিভাগের চেয়ারম্যান ডঃ সীতেশ চন্দ্র বাছার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ফার্মেসি অনুষদের তিন বিভাগের ৯টি প্রোগ্রামে ছাত্র আছেন ৭৬ জন শিক্ষার্থী। এই স্বল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ৬৭ জন। কিন্তু অপর বিভাগ ফার্মেসিতে এর উলটো চিত্র। এই বিভাগে ৩৫৩ ছাত্রের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র দুই জন শিক্ষক। তাদের একজন বিভাগের চেয়ারম্যান, অপরজন সাবেক চেয়ারম্যান। এমন সমন্বয়হীন পরিস্থিতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদে।

অনুষদের শিক্ষকদের অসহযোগিতার কারণে কোনো’ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অনুষদটির ডিন। ডিন অধ্যাপক ড. এস এম আবদুর রহমান বলেন, ‘ফার্মেসি অনুষদ এমন এক জটিল পরিস্থিতিতে আছে। আমি বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েছি, কিন্তু শিক্ষকদের বিরোধিতার মুখে কোনো কিছু বাস্তবায়ন করতে পারিনি। ফার্মেসি অনুষদে মোট চারটি বিভাগ রয়েছে। এর মধ্যে শুধু ফার্মেসি বিভাগেই পাঁচ বছরের স্নাতক প্রোগ্রাম রয়েছে। এ বিভাগে ছাত্রসংখ্যা ৩৫৩। এর বিপরীতে বিভাগে শিক্ষক আছেন মাত্র দুই জন। অন্যদিকে ফার্মাসিউটিক্যাল ক্যামিস্ট্রি বিভাগে ২৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষকও ২৫ জন। ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগে ২৭ শিক্ষার্থীর জন্য ১৯ জন শিক্ষক এবং ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগে ২৭ ছাত্রের জন্য ২৩ জন শিক্ষক রয়েছেন। এই তিন বিভাগে স্নাতক প্রোগ্রাম নেই, রয়েছে স্নাতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম।

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ফার্মেসি বিভাগ’টির ক্লাস নেন অন্য তিন বিভাগের শিক্ষকেরা। এই বিভাগের একাডেমিক কমিটির সভাপতি’ হিসেবে ডিন ও বিভাগীয় চেয়ারম্যান যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করেন। বিভাগগুলোকে সমন্বয় করেন অনুষদের ডিন। ফলে একধরনের হযবরল পরিস্থিতি চলছে ফার্মেসি বিভাগটি অনুষদটিতে । এ বিষয়ে অনুষদের ডিন অধ্যাপক এ এস এম আব্দুর রহমান বলেন, ‘ফার্মেসি বিভাগে শুধু একজন শিক্ষক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে আছেন। এই ‘বিভাগে অন্য বিভাগ থেকে শিক্ষকেরা ক্লাস নিতে আসেন। তাদের সমন্বয় করতে আমাকে দায়িত্ব পালন করতে হয়।বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ গ্রহণ করলে বিভাগটি আগের মতো সচল হতে পারবে।

কোনো বিভাগই স্বাধীন নয়’ অনুষদের এক বিভাগ আরেক বিভাগের ওপর নির্ভরশীল। ফার্মেসি বিভাগের ছাত্র থাকলেও শিক্ষক নেই। ফলে শিক্ষকের জন্য বিভাগটিকে অন্য বিভাগের প্রতি নির্ভরশীল থাকতে হয়। অন্যদিকে অন্য তিন বিভাগে স্নাতক না থাকায় শিক্ষার্থীর সংকটে থাকে বিভাগগুলো। এই তিন বিভাগ শিক্ষার্থীর জন্য নির্ভরশীল থাকে ফার্মেসি বিভাগের প্রতি।ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত অস্বাভাবিক: এদিকে তুলনামূলকভাবে অনুষদটিতে অন্যান্য অনুষদের তুলনায় বেশি শিক্ষক রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতি ৩০ শিক্ষার্থীর জন্য এক জন শিক্ষক রয়েছেন,. ফার্মেসি অনুষদে প্রতি ছয় জনের জন্য এক জন করে শিক্ষক রয়েছেন। তবে বিষয়টিকে ভুল ধারণা বলছেন অনুষদের ডিন। তিনি জানান, এখানে ৭৬ শিক্ষার্থীর জন্য ৬৭ জন শিক্ষক—এটা সঠিক নয়। এখানে অন্য তিন বিভাগের শিক্ষক সমন্বয় করে ৪০০ শিক্ষার্থীর একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন।

দুই ধরনের সমাধান: এই মুহূর্তে দুই ধরনের সমাধান দেখছেন অনুষদের ডিন। তিনি জানান, ফার্মেসি বিভাগ ছাড়া বাকি তিনটি বিভাগ অবলুপ্ত করে দিয়ে আগের রূপে ফিরে যাওয়া এবং আরেকটি সমাধান হচ্ছে, প্রতি বিভাগে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করিয়ে বিভাগকে পূর্ণাঙ্গরূপে আত্মপ্রকাশ করা। এছাড়া এটার সমাধান করা খুব কঠিন হয়ে উঠবে।সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘এটা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। আমাদের নিয়মনীতি কিছুটা পরিবর্তন করতে হতে পারে। আমরা বিষয়গুলা ভেবে দেখছি।

বর্তমানে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিভাগ চালু রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাষানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও ফার্মেসি বিভাগ রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, আশা বিশ্ববিদ্যালয়, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন অনুমোদিত প্রায় ২৫টি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিভাগ রয়েছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ডিন এবং ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস এম আবদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গার্মেন্টসের পরেই ওষুধ শিল্পের অবদান। ফার্মাসিস্টদের যে শুধু ওষুধ শিল্পেই কাজের সুযোগ আছে তা নয়; স্বাস্থ্য খাতেও তাঁদের কাজ করার সুযোগ রয়েছে। একজন ফার্মাসিস্ট স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সকল শাখা ছাড়াও ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ, বিপণনসহ সকল সেক্টরে কাজের সুযোগ পেয়ে থাকেন। এছাড়া খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রেও ফার্মাসিস্টের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক কথায় যেখানে ওষুধ রয়েছে সেখাই ফার্মাসিস্টের প্রয়োজন রয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও সরকারি প্রতিষ্ঠানে ফার্মেসির শিক্ষার্থীরা কাজের সুযোগ পেয়ে থাকেন।দেশের বাইরে থেকে ফার্মেসির উপর উচ্চতর ডিগ্রি নিতে চাইলে প্রার্থীকে অবশ্যই একাডেমিকভাবে ভালো ফলাফলের অধিকারী হতে হবে। এরপর বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে খোঁজ খবর নিতে হবে। এর জন্য আইএলটিএস, টোফেল, জিআরইসহ বিভিন্ন কোর্স করা থাকলে স্কলারশিপ পেতে সুবিধা হয়। আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এমনকি ভারতেও ফার্মেসির উপর উচ্চতর ডিগ্রি নেয়া যায়।

অন্যান্য লিখাসমুহ যা আপনি জানেন না বা জানলে অবাক হবেনঃ

রূপচর্চার জন্য দারুণ কার্যকর লেবুর ফেসপ্যাক

একইসাথে রূপচর্চা রেসিপি ও রোগনিরাময়তে সেরা দুই সবজি কি আজই জেনে নিন

পালং শাক এর রূপচর্চার সাথে পুষ্টি গুনাবলি আজই জেনে নিন

চোখের পাপড়ি ঘন আকর্ষণীয় করা সহজ ঘরোয়া পদ্ধতি আসুন জেনে নেই

থানকুনি পাতায় রয়েছে সারাজীবন যৌবন ধরে রাখার বিশেষ ক্ষমতা

গ্রিন টি প্রস্তুত খাওয়ার উপযুক্ত সময় নিয়ম ও দৈনিক জীবনের সুবিধাদি

ফিট থাকতে গ্রিন টির সুবিধা অসুবিধা 

স্বাস্থ্যকর মুলা শাক রেসিপি ও অন্যান্য গুনাগুন

মাছ দিয়ে লাল শাক রান্না Mach Dia Lal Shak Recipi

উদয় সিং Dance Dewane নাচ সবাইকে হতবাক করে অশ্রুসিক্ত হন মাধুরী দীক্ষিত সহ অন্যান্য বিচারক