স্বাস্থ্যের যত্ন ও ওজন কমানো:

শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে সবজি স্যুপ খেয়ে স্বাস্থ্য সচেতনরা ডায়েট কন্ট্রোল করে থাকেন। ওজন কমাতে বাঁধাকপি অন্যান্য বাজারজাত উপাদানের স্যুপ, মনে রাখতে হবে ডায়েট মানেই না খেয়ে থাকা নয়। বিশেষ করে পরিমিত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করে ডায়েট কন্ট্রোল করা অন্যতম একটি উপায়। শরীরের বাড়তি ওজন ঝেড়ে ফেলতে ডায়েট বেশ কার্যকর। তবে প্রথমেই আপনাকে করতে হবে নিয়মকানুন মেনে, জেনে-বুঝে পুষ্টি বিদের পরামর্শ অনুযায়ী। নয়তো কাঙ্ক্ষিত ওজন কমাতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।পুষ্টিকর খাবার সঠিক পরিমাণে গ্রহণ না করলে বা কম খেয়ে থাকলে শরীরের ওপর প্রভাব পড়বে। পরিমিত সুষম খাবার গ্রহণ ডায়েটে ওজন কমানোর প্রয়োজন বা নির্দিষ্ট ওজন ধরে রাখতে চাইলে অবশ্যই বয়স, ওজন, উচ্চতা এবং কতটুকু ওজন কমাতে হবে সেই অনুযায়ী ডায়েট এর চার্ট তৈরি করতে হবে। সময় ও খরচ বেশি ওজন কমাতে এটাই অনেকে ভেবে নেয়.কিন্তু ওজন কমাতে বাঁধাকপি স্যুপ কার্যকর সহজলভ্য সবজি।আবার কখন সিজন থাকে না উপকারি সব্জির।

বাঁধাকপি ও স্বাস্থ্যের যত্ন:

চার্ট ৭ দিনের, এক মাসের, বা নিরদিস্দিষ্ট সময় অনুজায়ী ক্যালরী ভিত্তিক কমানোর ডায়েট প্ল্যানে সবচেয়ে বেশি কার্যকর। সময় খরচ ও সঠিক উপাদান হাতের কাছে কখনো থাকলেও কখনো আবার সীমিত খরচে পাওয়া জায় না। শীতকালীন উপাদান বাঁধাকপির কথাই বলব। এটি অন্যতম উপাদান সবজির মধ্যে। উপকারি ও সুলভ মুল্যে সহজ লভ্য উপাদান হল বাঁধাকপির স্যুপ,সময় খরচ ওজন কমাতে বাঁধাকপি স্যুপ বেশি কার্যকর।প্রতি ২৫০ গ্রাম বাঁধাকপির স্যুপে আছে মাত্র ৪৫ ক্যালোরি।বাঁধাকপিতে আছে প্রচুর ফাইবার যা ওজন কমাতে অত্যন্ত সহায়ক।দুপুরে কিংবা রাতের খাবারের বদলে এই স্যুপ খেলে বেশ কম ক্যালরিতেই পেট ভরে যায়।পাশাপাশি ফল খেতে পারেন এবং প্রচুর পানি খাবেন। এভাবে সাত দিনের জন্য দেখতে খেয়ে দেখতে পারেন মাঝে মধ্যে দুপুরে স্যুপ না খেয়ে ফল বা ১ মুঠো ভাত খাবেন সবজি বা ১ টুকরা মাছ দিয়ে , রাতে খাবেন স্যুপ এভাবে পরিবর্তন করে করে খাবেন খাবার মেনু।

বাঁধাকপির স্যুপের উপকরণ:

  • পেঁয়াজ পাতা কুচি
  • কুচি করা বাঁধাকপি
  • গাজর ও ফুলকপি কুচি
  • পেঁয়াজ কোনাকুনি আকারে কাটা
  • টমেটো
  • রসুন

তৈরী পদ্বতিঃ

উপকরণ গুলো একসাথে সিদ্ধ করে ভেজিটেবল স্টক তৈরী করুন,তারপর ভেজিটেবল স্টক থেকে পেঁয়াজ পাতা বাঁধাকপির স্যুপকুচি, কুচি করা বাঁধাকপি, গাজর ও ফুলকপি কুচি, পেঁয়াজ কোনাকুনি আকারে কাটা, রসুন এগুলো তুলে ফেলুন। ৪-৫টা ট্মেটো ব্লেন্ড করে নিন।

  1. একটি কড়াইয়ে অলিভ অয়েল গরম করুন।কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন দিয়ে কিছুক্ষন ভাজুন।এরপর কড়াইয়ে আধা সেদ্ধ ভেজিটেবিল স্টক, বাধাকপি, ফুলকপি ও গাজর কুচি,টমেটো দিয়ে দিন।
  2. ১টি ডিমের সাদা অংশ লেবুর রস, কাঁচা মরিচ, লবন স্বাদ মত, গোল মরিচের গুঁড়া স্বাদ মত ,ট্মেটো ব্লেন্ড দিয়ে দিন ও নাড়তে থাকুন।লেবুর রস দিয়ে স্যুপ নামিয়ে ফেলুন।
  3. বাটিতে ঢেলে উপরে ধনিয়া পাতা দিয়ে সাজিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন মজাদার বাঁধাকপির স্যুপ।

বাঁধাকপি নিয়ে অন্যান্য তথ্য

চীন, মধ্য ও পশ্চিম ইউরোপ আর মেসোপটেমিয়ায় বাঁধাকপি আবাদের এর চাষ হয়ে আসছে চার হাজার বছর ধরে।বাঁধাকপি খাওয়া যায় কাঁচা, রান্না করে ও শুকিয়ে। এর পুষ্টিগুণও কোন পদ্ধতিতে খাওয়া হচ্ছে,ভিটামিন সি, ফাইবার,ফোলেট, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন এ, কে সহ অনেক উপাদান।রসমালাই বা রসগোল্লা ঘরোয়া উপকরনে রেসিপি ও উৎপত্তি গল্প

আছে এক কাপ বা ৯০ গ্রাম বাঁধাকপিতে রয়েছে ২২ ক্যালরি শক্তি, ১ গ্রাম, ফাইবার ২ গ্রাম; আর প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ভিটামিন সির ৫৪ শতাংশ, ভিটামিন কের ৮৫ শতাংশ, ফোলেটের ১০ শতাংশ, ম্যাঙ্গানিজের ৭ শতাংশ, ভিটামিন বি সিক্সের ৬ শতাংশ, ক্যালসিয়ামের ৪ শতাংশ, পটাশিয়ামের ৪ শতাংশ ও ম্যাগনেশিয়ামের ৩ শতাংশ মেলে।বাঁধাকপি খুব মিহি করে কেটে ১০ মিনিট রেখে সালাদে ব্যবহার সর্বোচ্চ পুষ্টিগুণ পাওয়া যায়।পাকস্থলী ও অন্ত্রের ভেতরের অংশকে শক্তিশালী পাশাপাশি আলসার নিরাময় করে।কাঁচা, আধা সেদ্ধ,বেক,এমনকি ভাপা, ভাজাকরে ও, কুচি কুচি করে রোদে শুকিয়ে বয়ামে ভরে রাখলে খাওয়া যায় বছর।এইচ এস সি 2020 শিক্ষার্থীরা ফরম পূরণের টাকা আজ থেকে যেভাবে ফেরত পাবেন ।

আমাদের দেশে প্রচুর পরিমাণে বাঁধাকপি হয়। যশোরের বাঁধাকপি রপ্তানি হচ্ছে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায়, করোনা পরিস্থিতিতে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চার মাসে যশোর থেকে ৭৪ হাজার ৩১৪ কেজি নিরাপদ সবজি ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, পটল, পেঁপে, চিচিংগা, ঝিঙে, বরবটি, লাউ, কলা, দেশি শিম ও গোল বেগুন।

2504 মন্তব্য